রংপুরের মিঠাপুকুরে পরকীয়া সন্দেহে ও পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নিয়ে পালিয়েছে স্ত্রী। গুরুতর অবস্থায় স্বামী সোলাইমান মিয়াকে (২৪) রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার দমদমা এলাকায় স্বামীর ঘুমানোর সুযোগে গোপনাঙ্গ কেটে নিয়ে পালিয়ে যান স্ত্রী রাহেনা বেগম (৩৫)।
এ ঘটনায় স্ত্রীকে আটকে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দমদমা বাজারের পাশে শিমুল পাড়া গ্রামের ফুলবাবু ওরফে ফুলু মিয়ার ছেলে সোলাইমান মিয়া ট্রাক ড্রাইভারের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের সুবাধে মাগুরা জেলার রাহেনা বেগমের সাথে মুঠোফোনে সম্পর্ক গড়ে উঠে । এক পর্যায়ে গত দুই বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বয়সে বড় হওয়ার পরেও প্রেমের টানে ২৪ বছর বছর বয়সী সোলাইমান তাকে বিয়ে করেন। গত ৬/৭ মাস আগে সোলাইমান তার স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরের দমদমায় নিয়ে এসে সংসার শুরু করেন।

একপর্যায়ে তাদের দুজনের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। রাহেনার অভিযোগ তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। আর সোলাইমান অভিযোগ তোলেন, স্ত্রীর বয়স বেশী হলেও তাকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। এক পর্যায়ে সোমবার জানুয়ারি রাতে খাওয়া শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। এরই সুযোগে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে স্ত্রী রাহেনা বেগম তার স্বামী সোলাইমান মিয়ার বিশেষ অঙ্গ কেটে নিয়ে পালিয়ে যান।

পরে এলাকাবাসী তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে যায়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজু আহম্মেদ জানান, ওই নারী একটি চিঠি লিখে গিয়েছেন। সেখানে তার পূর্বের সংসার নষ্টের জন্য বর্তমান স্বামী সোলাইমানকে দায়ী করেছেন। সোলাইমানের মোবাইলে একাধিক মেয়ের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, পরকীয়া সন্দেহে ও পারিবারিক কলহের জেরে এমনটা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। স্বামী অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্ত্রীকে আটকে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। গোপনাঙ্গের অবশিষ্ট অংশটি পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.